আমানতে আপনার কমিটি চালু করবেন যেভাবে

নিবন্ধন থেকে প্রথম দান লেখা পর্যন্ত — একটি কমিটি প্রথম দিন কী কী করবে, ধাপে ধাপে। আধা ঘণ্টার বেশি লাগার কথা না।

অনেক কমিটি প্রথম দিনই জানতে চান: কোথা থেকে শুরু করব? এই লেখাটা সেই প্রশ্নের উত্তর। যিনি কমিটির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক, তিনি একাই এই ধাপগুলো শেষ করতে পারেন। একটা ফোন আর এসএমএস আসে এমন একটি নম্বর হলেই চলে।

১. নিবন্ধন করুন

নিবন্ধনের পাতায় প্রতিষ্ঠানের নাম, কী ধরনের প্রতিষ্ঠান (মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান…), ঠিকানা, আর যিনি সভাপতি হবেন তাঁর নাম, ফোন নম্বর ও একটি পাসওয়ার্ড দিন। ব্যস। এই নম্বরটাই আপনার সাইন-ইন।

নিবন্ধনের পর একজন মানুষ আপনার আবেদন দেখে অনুমোদন দেন — সাধারণত সেদিনই। অনুমোদনের আগেও আপনি ভেতরে ঢুকে হিসাব লিখতে পারবেন; শুধু পাবলিক পাতাটা অনুমোদনের পর চালু হয়।

২. প্রথমবার ঢুকে তিনটি প্রশ্ন

প্রথম সাইন-ইনে অ্যাপ তিনটি জিনিস জিজ্ঞেস করে: আপনার অর্থবছর কোন মাসে শুরু, ভাষা, আর সংখ্যা বাংলা না ইংরেজি অঙ্কে দেখবেন। বেশিরভাগ কমিটির জন্য যা আগে থেকে দেওয়া থাকে সেটাই ঠিক — বদলাতে না চাইলে “এভাবেই থাক” বেছে নিন।

একটা কথা মনে রাখবেন: অর্থবছরের শুরু পরে বদলানো যায় না, কারণ প্রতিটি রসিদের নম্বরে বছরটা লেখা থাকে। আপনার কমিটি যদি রমজান থেকে বছর গোনে, এখানেই সেটা বলে দিন।

৩. কমিটির বাকিদের যোগ করুন

মেনু থেকে কমিটি পাতায় যান। প্রত্যেকের নাম, ফোন নম্বর আর পদবী দিন — সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ, সহকারী কোষাধ্যক্ষ, সাধারণ সদস্য, বা পর্যবেক্ষক। পদই ঠিক করে কে কী করতে পারবেন।

প্রত্যেককে আট অঙ্কের একটি সাময়িক পাসওয়ার্ড দেওয়া হয়। সেটা তাঁদের ফোনে পাঠিয়ে দিন; প্রথমবার ঢুকেই তাঁরা নিজের পাসওয়ার্ড ঠিক করে নেবেন।

অন্তত দুজন থাকা জরুরি: যিনি লিখবেন, আর যিনি অনুমোদন দেবেন। এক হাতে লেখা আর অনুমোদন দুটোই হয় না — এটাই আমানতের মূল নিয়ম।

৪. খাত, তহবিল আর হিসাব একবার দেখে নিন

সেটআপ পাতায় তিনটি তালিকা আগে থেকেই তৈরি থাকে:

  • খাত — আয় বা ব্যয় কী বাবদ: জুমার দান, বিদ্যুৎ বিল, ইমামের বেতন…
  • তহবিল — টাকাটা কার: সাধারণ, যাকাত, সদকা, নির্মাণ। যাকাতের টাকা কেবল যাকাতের খাতেই খরচ হবে; অ্যাপ নিজেই আটকে দেয়।
  • হিসাব — টাকাটা কোথায় রাখা: নগদ, ব্যাংক, বিকাশ।

যা লাগে না, নাম বদলান বা বাদ দিন; যা নেই, যোগ করুন। পাঁচ মিনিটের কাজ, আর একবারই করতে হয়।

৫. প্রথম দানটা লিখুন

নিচের সবুজ যোগ বোতামে চাপুন, আয় বেছে নিন, অঙ্ক, খাত, আর কে দিলেন — শেষ। দাতার নাম প্রথমবার লিখলে তাঁর একটা পাতা তৈরি হয়ে যায়; পরের বার নামের প্রথম কয়েকটা অক্ষর লিখলেই পেয়ে যাবেন।

এবার অন্য কেউ — ধরুন সাধারণ সম্পাদক — অনুমোদন পাতায় গিয়ে এন্ট্রিটা দেখে অনুমোদন দিন। ওই মুহূর্তে টাকাটা হিসাবে ধরা হয়, রসিদ নম্বর পড়ে, আর দাতার ফোনে ধন্যবাদের এসএমএস চলে যায়।

৬. ফোনের হোম স্ক্রিনে রাখুন

ব্রাউজারের মেনু থেকে “হোম স্ক্রিনে যোগ করুন” চাপলে আমানত আর দশটা অ্যাপের মতোই খুলবে — অ্যাপ স্টোর লাগে না, আপডেটের ঝামেলা নেই। কমিটির সবাইকে এটা করে নিতে বলুন।

এইটুকুই। এরপর প্রতিদিনের কাজ কেমন — কে কী লেখেন, কে অনুমোদন দেন, রিপোর্ট কোথায় — সেটা পরের লেখায়।

সব লেখা